
মৌসুম শুরুতে পর্যটকের পদভারে মুখরিত এখন সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা। দেশি-বিদেশি ভ্রমণ পিপাসুদের আগমনে এ সৈকত যেন আনন্দপুরীতে রূপ নিয়েছে। সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের বিরল দৃশ্য দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন তারা। ফলে শ্রীহীন কুয়াকাটা এখন সরগম হয়ে উঠেছে। ঢেউয়ের সঙ্গে মিতালীতে নেমেছেন হাজারো পর্যটক।
সরে জমিন ঘুরে দেখা গেছে, শুধু ছুটির দিনে নয়, এখন সপ্তাহের অনান্য দিনেও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকের পদচারণায় মুখর থাকে কুয়াকাটা। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় ভ্রমণে কুয়াকাটাকে বেছে নিচ্ছেন। এমনটাই জানালেন ভ্রমণপিপাসুরা।
জানা গেছে দেশি-বিদেশি পর্যটকরা দিনভর যানবাহন থেকে নামতে শুরু করেছেন এখানে। নির্ধারিত হোটেল হোটেলে এসে নেমে পড়ছেন এখানের প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে। সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের বিরল চোখ ধাদানো দৃশ্য দেখতে।
এদিকে কেউ ছবি তোলেন,কেউ দৌড় ঝাপ,কেউবা আবার সৈকতের বালুতে নাম লিখেন নিজের এবং প্রিয়জনের। অনেকে মিশে যান সমুদ্রের ঢেউয়ের মিতালিতে। বেরিয়ে পড়েন এখানের দর্শনীয় স্থান রাখাইন পল্লী রাখাইন মার্কেট, বৌদ্ধ মন্দির,লাল কাকড়ার চর,ঝাউতলা,গঙ্গামতীর চর, ফাতরা বন এবং শুটকি পল্লী সহ নয়নাভিরাম স্থাপনা।
দিনাজপুর থেকে আশা পর্যটক মঞ্জুর মোরশেদ জানান, প্রায় দীর্ঘ এক যুগ পর কুয়াকাটা আসলাম। আগে ফেরি আর সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নাজুক থাকায় আনন্দটা পরিপূর্ণ হয়নি। এখন যোগাযোগ ব্যবস্থা খুব ভালো হওয়ায় ভোগান্তি কমে গেছে।
যশোর থেকে আসা পর্যটক আব্দুল রহিম বললেন, অনেক আগে একবার এসেছিলাম। তখন আনন্দের চেয়ে ভোগান্তি টাই বেশি পেয়েছিলাম। এবার স্ত্রী সন্তান সহ এসেছি। অস্বাভাবিক স্বস্তি অসাধারণ আনন্দ পাচ্ছি।
এখানে আবাসিক হোটেল সৈকতের মালিক জিয়া শেখ জানান, কুয়াকাটা থেকে সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হয় আমার হোটেলে পর্যটকদের রুম দিতে অনেক সময় হিমশিম খাচ্ছি।
ভ্যান,ইজিবাইক,মোটর বাইক চালকরা জানান, একটা সময় ছিল সীমিত আয় হত। এখন দিন দিন পর্যটক বাড়ছে। আমাদেরও আয় বেড়েছে। আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে দুটো ডাল ভাত খেয়ে মোটামুটি বেঁচে আছি। পর্যটন নির্ভর অনেক ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। তাদের বেচা বিক্রিও অতীতের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে।
কুয়াকাটা টুরিস্ট পুলিশ জানান, আগত ভ্রমণ পিপাসুদের নিরাপত্তায় সতর্কভাবে কাজ করছেন।