
খুচরা বিক্রেতারা ধরা পড়লেও অধরাই মূল সিন্ডিকেট; নদীপথ ও সড়কপথে মাদক প্রবেশের অভিযোগপটুয়াখালীর উপকূলীয় উপজেলা বাউফলে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে মাদকের বিস্তার। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নেই গাজা ও ইয়াবা সহজলভ্য হয়ে উঠেছে। মাঝে মধ্যে দু-একজন খুচরা বিক্রেতা বা সেবনকারী আটক হলেও মূল মাদক কারবারিরা থেকে যাচ্ছেন অধরা। ফলে ধীরে ধীরে মাদকের ভয়াল থাবায় আক্রান্ত হচ্ছে তরুণ ও ছাত্রসমাজ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পার্শ্ববর্তী দশমিনা, গলাচিপা, দুমকি ও বাকেরগঞ্জ উপজেলা এবং ভোলা জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে সড়ক ও নদীপথ ব্যবহার করে মাদক বাউফলে প্রবেশ করছে। বিশেষ করে নদীপথ ব্যবহার করে গোপনে চালান আনার অভিযোগ রয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থানের সুবিধা কাজে লাগিয়ে মাদকচক্র সক্রিয় রয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
বাজারকেন্দ্রিক এলাকা, চায়ের দোকান, নির্জন সড়ক ও গ্রামীণ নির্জন বাড়িগুলোতে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সক্রিয় হয়ে ওঠে এসব চক্র। অভিযোগ রয়েছে, স্কুল-কলেজ পড়ুয়া কিশোর ও তরুণদের টার্গেট করে প্রথমে কম দামে ইয়াবা সরবরাহ করা হয়। পরে দেনার ফাঁদে ফেলে তাদের আসক্ত করে তোলা হচ্ছে।
মাদকের প্রভাব এখন সামাজিক অস্থিরতায় রূপ নিচ্ছে। এলাকায় চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও পারিবারিক কলহের ঘটনাও বাড়ছে। অনেক পরিবার সন্তানের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যয় বহন করতে গিয়ে আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। পর্যাপ্ত পুনর্বাসন ও গোপন চিকিৎসা সুবিধা না থাকায় অনেকেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঝে মধ্যে অভিযান চালালেও স্থানীয়দের প্রশ্ন—কেন বড় মাদকচক্র এখনো অধরা? খুচরা বিক্রেতারা ধরা পড়লেও মূল সরবরাহকারী ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সদস্যদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান অগ্রগতি কম বলেও অভিযোগ উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল ধরপাকড় নয়—সমন্বিত প্রতিরোধই হতে পারে মাদক নিয়ন্ত্রণের কার্যকর উপায়। এজন্য প্রতিটি ইউনিয়নে কমিউনিটি নজরদারি বাড়ানো, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সচেতনতা কর্মসূচি চালু করা, তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গোপন চিকিৎসা ও কাউন্সেলিং সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি।
সচেতন মহলের মতে, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক, অভিভাবক ও তরুণদের সম্মিলিত উদ্যোগেই গড়ে উঠতে পারে একটি মাদকমুক্ত সমাজ। বাউফলকে রক্ষায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।