
ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার ঈশ্বরকাটি গ্রামে সুদের জালে ফেঁসে এক দরিদ্র হিন্দু পরিবার নিদারুণ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। প্রভাবশালী সুদ ব্যবসায়ী মজিবার হাওলাদারের বিরুদ্ধে ওই পরিবারের নারীর সঙ্গে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পাশাপাশি তাদের বসতভিটা জোরপূর্বক দখলের ঘটনাও প্রকাশ্যে এসেছে।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মৃত আব্দুল হাকিম হাওলাদারের ছেলে মজিবার দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে সুদের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। গ্রামের দরিদ্র বাসিন্দা সজীব চন্দ্র দাস ওরফে ভূলুর স্ত্রী তার কাছ থেকে সুদের টাকা নিয়ে দেনায় জর্জরিত হয়ে পড়েন। পরে টাকা সময়মতো পরিশোধ করতে না পারায় শুরু হয় ভয়ভীতি, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।
অভিযোগ অনুযায়ী, স্বামী বাড়িতে না থাকার সুযোগে একাধিকবার তাকে ধর্ষণ করে মজিবার। পরবর্তীতে ওই নারী একটি সন্তানের জন্ম দেন, যার পিতৃত্ব দাবি করে বসেন অভিযুক্ত মজিবার হাওলাদার নিজেই। এতে এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
সবচেয়ে ভয়াবহ অভিযোগ হলো—পরিবারটির শেষ সম্বল বসতবাড়িটিও ভয় দেখিয়ে লিখে নিয়েছেন মজিবার। ভুক্তভোগী নারী বলেন, “সুদের টাকা দিতে না পারায় আমাকে হুমকি দিয়ে জমি লিখে নিয়েছে। এখন আমার মাথা গোঁজার জায়গাটুকুও নেই।”
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, মজিবার হাওলাদারের ভাই বাবুল হাওলাদার স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হওয়ায় প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে পুরো ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি কিছু সাংবাদিককে অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে না তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। ঘটনার সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য পারভেজ মল্লিকও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
তবে এ বিষয়ে ইউপি সদস্য পারভেজ মল্লিক বলেন, “আমি এমন কিছু আগে জানতাম না। যদি এমন ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবশ্যই দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
ঈশ্বরকাটি গ্রামের সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন। তারা বলেন, “এটি কোনো একক পরিবারের বিষয় নয়, বরং সমাজের মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধের প্রশ্ন। দোষীদের ধর্ম-বর্ণ নয়, অপরাধই মুখ্য হওয়া উচিত।”
অবশ্য, এখনো পর্যন্ত নিরাপত্তার অভাবে ভুক্তভোগী পরিবারটি কোনো আইনি পদক্ষেপ নিতে পারেনি। তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও নিরাপত্তা কামনা করছেন।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অভিযুক্ত মজিবার হাওলাদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে ঈশ্বরকাটি গ্রামের জনগণ ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
দৈনিক দিগন্ত বার্তা
সত্যের খোঁজে, প্রতিদিন এক নতুন দিগন্তে।