1. dailydigantabarta@gmail.com : dailydigantabarta :
দুমকিতে কৃষকদের দেয়া ভর্তুকি মূল্যের কৃষি যন্ত্রপাতির অভিযোগ উঠেছে । - dailydigantabarta
১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| গ্রীষ্মকাল| রবিবার| রাত ১২:৫৭|
শিরোনামঃ
পটুয়াখালীতে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ২৭৩ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে পটুয়াখালীতে জেলা প্রশাসন উদ্যোগে বৈশাখী শোভাযাত্রা দুমকি উপজেলার মুরাদিয়ায় ইউনিয়ন ছাত্রদলের উদ্যোগে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি ও সম্পাদককে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীস্টান কল্যান ফ্রন্ট নেতৃবৃন্দ পটুয়াখালী সদর উপজেলা শিক্ষক কর্মচারী কল্যাণ সমিতির নির্বাচন সম্পন্ন বাউফলে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ জাল ধ্বংস অধ্যক্ষের কক্ষে তালা, ধানখালী ডিগ্রি কলেজে অচলাবস্থা রাঙ্গাবালীতে জেলে চাল বিতরণে অর্থ আদায়ের অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস প্রশাসনের চালিতাবুনিয়ায় জেলেদের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ মির্জাগঞ্জে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে ভুক্তভোগী পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

দুমকিতে কৃষকদের দেয়া ভর্তুকি মূল্যের কৃষি যন্ত্রপাতির অভিযোগ উঠেছে ।

দুমকি পটুয়াখালী প্রতিনিধি
  • Update Time : মঙ্গলবার, আগস্ট ১৯, ২০২৫,
  • 137 Time View

পটুয়াখালীর দুমকিতে সরকারি ভর্তুকিমূল্যে দেওয়া বিভিন্ন কৃষিযন্ত্র কৃষকদের মাঝে বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত কৃষকদের না দিয়ে এসব যন্ত্র দেওয়া হয়েছে প্রভাবশালী ব্যক্তি, দালালদের। এ জন্য কৃষি কর্মকর্তাকে প্রতিটি যন্ত্রের জন্য দিতে হয় অর্থ। আর এসব কিছুর মূলে রয়েছেন খোদ দুমকি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এড. হারুন অর রশীদ হাওলাদার ও কৃষি কর্মকর্তা মেহের মালিকা। এমন পরিস্থিতিতে বিতরণ হওয়া বেশিরভাগ যন্ত্রের হদিসও মিলছে না।
জানা গেছে, সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে ৫০ শতাংশ ভর্তুকিতে সরকারি অর্থায়নে বিভিন্ন ধরনের কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় ২০২১-২২ এবং ২০২২-২৩ অর্থ বছরে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হয় প্রায় দেড় কোটি টাকার কৃষি যন্ত্রপাতি। কিন্তু সরেজমিনে মাঠ পর্যায়ে এর বেশির ভাগ মেশিনের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
কৃষি যন্ত্রপাতি লাপাত্তা হওয়ার পেছনে মূল হোতা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও তৎকালীন কৃষি অফিসের সাবেক কৃষি অফিসার মেহের মালিকা। তার সঙ্গে রয়েছেন উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা প্রয়াত আবু মুছা, উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা দুলাল দাস, লুৎফর রহমান ও মো: ইউনুচ।
সংশ্লিষ্ট নথি ঘেঁটে দেখা যায়, ২০২১-২২ এবং ২০২২-২৩ অর্থ বছরে সরকার থেকে ১টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার দেওয়া হয় পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নে। এছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে ২৯টি পাওয়ার টিলার দেওয়া হয়েছে। এতে সুবিধাভোগী কৃষক হিসেবে যাদের নাম দেওয়া হয়েছে, তারা অনেকেই কৃষক নন তবে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ হাওলাদারের সমর্থক-কর্মী বলে জানা যায়।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কৃষিযন্ত্র সরবরাহের আগেই কৃষকের সঙ্গে কৃষি অধিদপ্তরের একটি চুক্তিপত্র করতে হয়। ওই চুক্তিপত্রে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাসহ তিনজন এবং কৃষকের পক্ষে তিনজন সাক্ষীর স্বাক্ষরের পর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্বাক্ষর করে মেশিন সরবরাহ করার কথা।
কম্বাইন্ড হারভেস্টার বিতরণে অনিয়ম বড় ধরনের। একটি মেশিনে দুই লাখ থেকে প্রায় ১৬ লাখ টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি দেয় সরকার। কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে উপজেলা চেয়ারম্যান তার পছন্দের কৃষক নির্বাচন করে কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তা কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা করে ডাউন পেমেন্ট ৮ লাখ টাকা দিয়ে মেশিন এনে কৃষককে বুঝিয়ে দেন। কৃষকের প্রাপ্তি স্বীকার নিয়ে কোম্পানি সরকারের ভর্তুকির টাকা আবেদন করে আদায় করে থাকে। এরপরে কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে ওই মেশিন বিক্রি করে টাকা ভাগাভাগি করে নেন দুই পক্ষ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কৃষি কর্মকর্তা জানান, যারা মেশিনের জন্য আবেদন করেন তাদের মেশিন দেওয়া হয় ঠিকই। কিন্তু কেউ মেশিন নিয়ে কাজে লাগান আবার কোম্পানির লোকজন এই মেশিন দিয়ে ব্যবসা করেন।
ভর্তুকিমূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহের জন্য এসিআই মোটরস লিমিটেড, আদি এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড, মেটাল অ্যাগ্রিটেক লিমিটেড, বাংলা মার্ক, এসকিউ অ্যাগ্রিকালচার লিমিটেড ও কৃষিবিদ অ্যাগ্রিকালচার লিমিটেডসহ ৩৪ কোম্পানিকে নিয়োগ দেওয়া হয়। আর এসব কোম্পানির সঙ্গে কৃষকরা চুক্তি করার আগে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিভিন্ন কোম্পানির লোকদের সঙ্গে দেন-দরবার শুরু করেন কে কত দেবেন। যে বেশি টাকা দেবে সেই কোম্পানির মেশিনই সরবরাহ করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে দুমকি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: ইমরান হোসেন বলেন, নিয়ম অনুযায়ী কৃষকদের মাঝে কৃষিযন্ত্র বিতরণ করার কথা বটে। তবে এটি তার সময়ে হয়নি। এর আগে যিনি ছিলেন তিনি ভাল বলতে পারবেন।
মোবাইল ফোনে সাবেক কৃষিকর্মকর্তা মেহের মালিকা বলেন, কোনো রকম অনিয়ম-দুর্নীতি হয়নি। অনেক কৃষক যন্ত্র বরাদ্দ পেয়ে বিক্রি করে দিতে পারেন। ফলে অনেক যন্ত্র হয়তো মাঠে নেই।
সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এড. হারুন অর রশিদ হাওলাদারকে একাধিকবার ফোন করা হলেও ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজার মোঃ ইজাজুল হক বলেন, খতিয়ে দেখার আশা ব্যক্ত করেছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। স্বত্ব © ২০২৫ দৈনিক দিগন্ত বার্তা           Themes Created by BDITWork