1. dailydigantabarta@gmail.com : dailydigantabarta :
পটুয়াখালীতে ছাত্র-জনতা বিরোধী কর্মকর্তার আয়োজনে ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ অংশগ্রহণ ঘিরে বিতর্ক - dailydigantabarta
৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| গ্রীষ্মকাল| শনিবার| দুপুর ১:৩০|
শিরোনামঃ
পটুয়াখালীতে কোস্ট গার্ডের অভিযান: ৩৯ লাখ টাকার সামুদ্রিক মাছ ও জাটকা জব্দ আড়াইহাজারে মস্তকবিহীন আব্রাহাম হত্যার মূলহোতা কাতার থেকে গ্রেফতার পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে র‍্যাব-৮ এর ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি পটুয়াখালীতে এনএসআই-কোস্ট গার্ডের যৌথ অভিযানে ১৪ লাখ টাকার মাছ উদ্ধার, আটক ৩ পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে নৌপথে নিরাপত্তা জোরদার, মাঠে নৌ পুলিশ সোনারগাঁয়ে ৩০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার নৌ পুলিশ কর্তৃক আমদানি নিষিদ্ধ বিদেশি তৈরি মদ উদ্ধার পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা: দ্রুত বিচার ও আইন সংস্কারের দাবি সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেড, কল্যাণ সভা ও অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত ফতুল্লায় ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

পটুয়াখালীতে ছাত্র-জনতা বিরোধী কর্মকর্তার আয়োজনে ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ অংশগ্রহণ ঘিরে বিতর্ক

পটুয়াখালী প্রতিনিধি || দৈনিক দিগন্ত বার্তা
  • Update Time : সোমবার, জুলাই ২৮, ২০২৫,
  • 191 Time View

পটুয়াখালীতে আলোচিত ও বিতর্কিত সরকারি কর্মকর্তা ডা. খালেদুর রহমান মিয়ার আয়োজনে ‘জুলাই পুনর্জাগরণ অনুষ্ঠানমালা-২০২৫’-এ ‘জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের’ অংশগ্রহণ ঘিরে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (২৮ জুলাই) সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয় অনুষ্ঠানটি। আয়োজক ছিলেন পটুয়াখালী সিভিল সার্জন ডা. খালেদুর রহমান মিয়া—যিনি গত বছর ৩ আগস্ট ঢাকায় ছাত্র-জনতা বিরোধী মিছিলে অংশ নিয়ে ‘এক দফা কবর দে’ স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে সমালোচিত হয়েছিলেন।

ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ছাত্র-জনতা ও নাগরিক সমাজ তার বিরুদ্ধে নানা সমালোচনায় মুখর হয়। সেই সময় তিনি ঢাকায় কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাকে পটুয়াখালীতে সিভিল সার্জন হিসেবে পদায়ন করা হয়, যা নিয়েও বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

সম্প্রতি তার ছাত্র-জনতা বিরোধী ভূমিকা নিয়ে একটি প্রতিবেদন ২৬ জুলাই দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এর মধ্যেই তার আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো ‘জুলাই আন্দোলনের’ স্মরণসভা। এতে উপস্থিত ছিলেন কিছু ‘জুলাই যোদ্ধা’ও, যা সাধারণ ছাত্রসমাজ, রাজনৈতিক কর্মী ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

পটুয়াখালীর একজন বর্ষীয়ান শিক্ষক বলেন,

যে ব্যক্তি ছাত্রদের কবর দিতে চেয়েছিলেন, তার আয়োজনে ছাত্র শহীদদের নাম স্মরণ করাটা লজ্জাজনক। এটা নৈতিক আপস ও আন্দোলনের আদর্শচ্যুতির প্রতিচ্ছবি।”

একজন সংস্কৃতিকর্মী মন্তব্য করেন,

> “ছাত্র-জনতা বিরোধী অবস্থান নেওয়া একজন কর্মকর্তার এমন উদ্যোগে ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ উপস্থিতি আমাদের হতাশ করেছে। এটা আমাদের ইতিহাস ও আত্মত্যাগের অবমাননা।”

এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে জুলাই আন্দোলনের অন্যতম মুখ তোফাজ্জেল বলেন,

“সিভিল সার্জন সাহেবের একটি ভাইরাল ভিডিও আমি নিজেও দেখেছি। বিষয়টা কারো অজানা নয়। তবে এখন অনেকে বলছে, নিয়োগকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে প্রচারণা হচ্ছে। আমরা বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখছি। আর এমনিতেও অনেক বড় অপরাধীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়।”

আরেক জুলাই যোদ্ধা সালমান জানান,

“ঘটনার বিষয়ে আমরা শুনেছি। এখন এ নিয়ে সবার সঙ্গে আলোচনা চলছে। ডিসি স্যরকেও বিষয়টি অবগত করেছি।”

তবে ছাত্র সমাজের একাংশ বলছে, এই ধরনের অনুষ্ঠানে বিতর্কিত ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা ‘আন্দোলনের চেতনাকে আঘাত’ করছে। একজন ছাত্রনেতা বলেন,

“এটা স্পষ্ট রাজনৈতিক সুবিধাবাদের একটা দৃষ্টান্ত। ছাত্র শহীদদের রক্তের সঙ্গে আপস মেনে নেওয়া যায় না।”

এই ঘটনা পটুয়াখালীর রাজনীতি ও নাগরিক মহলে গভীর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে—যেখানে আন্দোলনের আত্মত্যাগ আর নৈতিকতা, উভয়ই যেন আজ প্রশ্নবিদ্ধ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। স্বত্ব © ২০২৫ দৈনিক দিগন্ত বার্তা           Themes Created by BDITWork