
ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা আর ধর্মীয় ভাব গাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে সাগরকন্যা কুয়াকাটায় গঙ্গাস্নান ও শ্রী কৃষ্ণের রাস উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নির্ঘুম রাত কাটিয়ে পূর্নিমা তিথিতে সূর্য ওঠার সাথে সাথে কুয়াকাটার সৈকতে পূণ্যস্নান শেষ করেছেন হাজার হাজার সনাতন ধর্মালবলম্বী নর-নারীরা। স্নান শেষে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে গেছেন।
আজ বুধবার ভোরে পুন্যার্থীরা স্নানের আগ মুহুর্তে সৈকতে পুণ্যের আশায় কেউ মোমবাতি ও আগরবাতি জ্বালিয়ে উচ্চস্বরে গীতা ও চন্ডি পাঠ করেছেন। আবার কেউ হাতে বেল পাতা, ফুল, ধান, দূর্বা, হরিতকী, ডাব, কলা, তেল, সিঁদুর সাগরের জলে অর্পণ করেছে। এ সময় সনাতন ধর্মালবলম্বী নারীদের উলুর ধ্বনিতে মুখরতি হয়ে ওঠে পুরো সৈক এলাকা। আবার কেউ কেউ মাথার চুল ন্যাড়া করে প্রায়শ্চিত্ত ও পিন্ডদান করেন।
তবে প্রশাসনিক বিধিনিষেধের কারনে এবছর সৈকতে বসেনি রাস মেলা। এর আগে রাতভর কুয়াকাট শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দিরে পূজার্চনা, সঙ্গীতানুষ্ঠান ও মহানাম কীর্তনে মেতে ওঠে সনাতনীরা।

গতকাল মঙ্গলবার অধিবাসের মধ্য দিয়ে এ উৎসব শুরু হয়ে বৃহস্পতিবার সকালে সমুদ্র স্নানের মধ্যদিয়ে এর সমাপ্তি ঘটবে। রাস পূজায় অংশ নিতে আসা শ্রী কৃষ্ণের ভক্ত পুণ্যার্থী ও দর্শনার্থীদের ভীড়ের পাশাপাশি পর্যটকদের পদচারণা ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে এ বছর রাস উৎসবে অন্যান্য বছরের তুলনায় পুন্যার্থী এবং দর্শনার্থীদের আগমন কম ছিল বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বিকিকিনিও কম হয়েছে।
এ উৎসবকে নির্বিঘ্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারিতে ছিল সড়ক ও সমুদ্র সৈকত এলাকা। কোন ধরনের অপ্রতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
কুয়াকাটায় পুন্যস্নানে আসা পরিমল চন্দ্র দাস বলেন, নানা রকম সমস্যার মধ্যে এ বছরটা পার করেছি। সামনের দিনগুলো যাতে ভালো কাটে, সে মনোবাসনা নিয়ে কুয়াকাটায় পুণ্যস্নান করতে এসেছি। ভালোভাবেই ধর্মীয় আচার পালন করতে পারায় নিজের কাছে ভালো লাগছে।
গবিন্দ চন্দ্র বড়াল নামে একজন সাগরের পানিতে নেমে মনে মনে কী যেন জপতে লাগলেন। খানিক পর দুহাতে সাগর থেকে পানি নিয়ে স্ত্রী-পুত্রের মাথায়-গায়ে ঢেলে দিলেন। এভাবে ভক্তকুলের নানান রকমের নিয়ম-রীতি পালন করতে দেখা গেল। কেউ নিজের জন্য, আবার কেউ স্বর্গবাসী মা-বাবার জন্য মানত করে সৈকতের বালুচরে বসে মাথা ন্যাড়া করেন।
ভক্ত দাস নামের পুন্যার্থী বলেন, বাবা মারা গেছেন কয়েক মাস হলো। তার নামে মানত করেছিলাম। পূর্ণিমার তিথিতে রাসপূজার সময় মাথা ন্যাড়া করে সে মানত রক্ষা করেছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
কুয়াকাটা রাস পূজা ও পুন্যস্নান উদ্যাপন কমিটির সভাপতি কাজল বরণ দাস বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারো আমরা রাস পূজা উপলক্ষে রাতভর ধর্মীয় সঙ্গীতানুষ্ঠান কৃষ্ণের নাম যজ্ঞ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকালে পুণ্যের আশায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আশা সনাতন ধর্মালবলম্বী নর-নারীরা গঙ্গাস্নানে অংশগ্রহন করেন। তবে পুন্যার্থীরা পূর্নিমা তিথিতে সুন্দর ভাবেই স্নান সম্পন্ন করেছে ।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব মো. কাউসার হামিদ বলেন, রাস উপলক্ষে আমরা বিভিন্ন আয়োজন হাতে নিয়েছি, বরাবরের থেকে একটু আলাদা বিনোদন দিতেই মার্কেটের প্রসার বাড়ানো, আলাদাভাবে মোবাইল টয়লেট, চেইঞ্জিং রুমসহ নানা আয়োজন করা হয়েছে। যে কারণে এবারের আয়োজন প্রত্যেকটা পুণ্যার্থী ও দর্শনার্থী উদযাপন করেছে। পুরোপুরি এই আয়োজন শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমরা মাঠে আছি।