
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে মোঃ রমজান আলী (২৩) নামে এক ব্যক্তির ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে ভুক্তভোগী পরিবারের উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৮ মার্চ) বেলা ১১টায় মির্জাগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। হামলার শিকার রমজান আলী উপজেলার কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়নের মকুমা গ্রামের বাসিন্দা মো. সোবহান খানের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন প্রবাসে কর্মরত ছিলেন। আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রায় এক সপ্তাহ আগে ছুটি নিয়ে তিনি দেশে ফেরেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রমজান আলীর পিতা মো. সোবহান খান।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, গত ২৪ মার্চ বেলা প্রায় ১১টার দিকে তার ছেলে রমজান আলী স্ত্রী মনজিলা আক্তারকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে নিজ বাড়ি থেকে সুবিদখালী বাজারে কেনাকাটার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে কাকড়াবুনিয়া এলাকার মেলকারবাড়ী নামক স্থানে পৌঁছালে পূর্ব থেকে ওতপেতে থাকা মাহবুব খান, মো. মিঠু খান, বাচ্চু মৃধা, রাকিব মৃধা, শহিদুল ও আলী খানসহ আরও কয়েকজন লোহার রড ও লাঠিসোটা নিয়ে তাদের পথরোধ করে।
এ সময় জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে তারা রমজান আলীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং প্রতিবাদ করলে তাকে এলোপাতাড়িভাবে মারধর শুরু করে। প্রাণ বাঁচাতে রমজান আলী দৌড়ে পাশের একটি চা-বিস্কুটের দোকানে আশ্রয় নেন। কিন্তু সেখানেও হামলাকারীরা তাকে ধাওয়া করে গিয়ে লাঠি ও রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর আহত করে।
রমজান আলী ও তার স্ত্রীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে। পরে হামলাকারীরা বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
স্থানীয়দের সহযোগিতায় গুরুতর আহত অবস্থায় রমজান আলীকে মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার পরদিন ২৪ মার্চ মির্জাগঞ্জ থানায় এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানান সোবহান খান। তিনি অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।