
পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার ৬নং কার্তিকপাশা ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. আবু প্যাদা (পিতা মৃত ছাদেম আলী প্যাদা) তার নিজস্ব জমিতে নির্মিত দোকান জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় কিছু সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, চাঁদা না দেওয়ায় বৃদ্ধ আবুকে মারধর করে গুরুতর আহত করার পাশাপাশি দোকানের ভাড়াটিয়াদেরও মারধর করে বের করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
আবু প্যাদা অভিযোগ করেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মাসুদ প্যাদা, শহীদ প্যাদা, বাদল প্যাদা (সকলেই পিতা মৃত ইয়াকুব আলী প্যাদা), গত ৮ আগস্ট ২০২৪ তারিখে কার্তিকপাশা বুদ্ধিজীবী বাজার এলাকায় তার পৈত্রিক ভিটায় নির্মিত দোকানপাট জোরপূর্বক দখল করে নেয়।
তিনি আরও জানান, দোকান থেকে ভাড়াটিয়াদের বের করে দিয়ে নিজ নামে ভাড়ার নতুন চুক্তি তৈরি করে জোরপূর্বক ভাড়া উত্তোলন করছে অভিযুক্তরা। ভয়ে স্থানীয়রা মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। এলাকাবাসীর নীরবতা এবং প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার চরম হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
আবু প্যাদা বলেন, “ঘটনার পর আমি থানায় লিখিত অভিযোগ করি, কিন্তু তৎকালীন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির অভিযোগটি ধামাচাপা দেন এবং কোনো আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। এরপর আমি পটুয়াখালী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করি এবং ২৭ মে ২০২৫ তারিখে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবরে লিখিত অভিযোগ জমা দেই (স্বারক নম্বর: ৩০২/MP)।”
তিনি আরও জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে তিনি বাধ্য হয়ে রেজিস্ট্রার অফিসের মাধ্যমে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা, রাষ্ট্রপতি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয় এবং বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি বরাবর অভিযোগ করেছেন।
শেষ পর্যন্ত কোনো প্রতিকার না পেয়ে আবু প্যাদা কান্নাভেজা কণ্ঠে বলেন, “আমি আইনের আশ্রয় চেয়েছি, কিন্তু আজও বিচার পাইনি।”
এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও সঠিক বিচার দাবি করেছেন।