
কলাপাড়ায় শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মামলা, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী ডিগ্রি কলেজে অধ্যক্ষের কক্ষে তালা দেওয়াকে কেন্দ্র করে চরম অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। এ ঘটনায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আবুল কালাম আজাদ কলাপাড়া থানায় মামলা (নং-০৯/২০২৬) দায়ের করেছেন।
অধ্যক্ষ জানান, এ বিষয়ে তিনি উপজেলা প্রশাসনের কাছেও লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এবং দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২৬ মে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের এক স্মারকে সাবেক অধ্যক্ষ বশির আহম্মেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়ায় তার এমপিও স্থগিত করা হয়। এরপর কলেজের প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিলে ১৮ জন প্রভাষকের সম্মতিক্রমে এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় জ্যেষ্ঠ প্রভাষক মো. আবুল কালাম আজাদকে সাময়িকভাবে অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ অভিযোগ করেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই একটি পক্ষ তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং কলেজের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, “দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে একটি মহল ক্ষুব্ধ হয়ে পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।”
তার অভিযোগ, গত ৬ এপ্রিল কলেজ চলাকালীন সময়ে কয়েকজন শিক্ষক উচ্চস্বরে চিৎকার করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তারা জোরপূর্বক তাকে কক্ষ থেকে বের করে দিয়ে কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন এবং শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করে দেন।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন সহকারী অধ্যাপক মাসুম বিল্লাহ, আনোয়ার হোসেন সিকদার, সজল চন্দ্র ভাট, তৌহিদুল ইসলাম ও মোশাররফ মৃধা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সহকারী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন সিকদার বলেন, “আবুল কালাম আজাদ অবৈধভাবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন। তাই আমরা শিক্ষকদের সিদ্ধান্তে তার কক্ষে তালা দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে। সমাধান না হলে শিক্ষকরা আন্দোলনে যেতে পারেন।
এ বিষয়ে কলাপাড়া থানার ওসি রবিউল ইসলাম বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।
এদিকে, ঘটনার পর থেকে কলেজে শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও