
ডাকসুর সাবেক ভিপি ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সদ্য জন্মগ্রহণ করা এনসিপির পৃষ্ঠপোষকতা করছে। তাই আমরা সরকারকে বারবার সতর্ক করছি, সরকার যদি নিরপেক্ষ আচরণ করতে ব্যর্থ হয় তাহলে নির্বাচনের আগে নির্বাচনের জন্য আরেকটি নিরপেক্ষ সরকার গঠনের প্রয়োজন হতে পারে। আমরা মনে করি সরকার সকল দলের প্রতি সমান আচরণ করবে।
শুক্রবার (২৬ জুলাই) কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড় টাউনহল মাঠে গণঅধিকার পরিষদ কুমিল্লা জেলার উদ্যোগে গণঅভ্যুত্থানের জনআকাঙ্ক্ষা ও রাষ্ট্র সংস্কার শীর্ষক সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান। নুরুল হক নুর বলেন, আমরা বিভিন্নভাবে শুনেছি কোনো কোনো জেলায় বৃক্ষমেলা বন্ধ করে, স্কুল ক্লাস বন্ধ করে তাদের সমাবেশে নিয়ে আসা হচ্ছে। এটি নতুন বাংলাদেশের চিত্র নয়। এগুলো আমরা পুরনো আমলে দেখেছি।
তিনি বলেন, গত ৫০ বছরের পুরনো রাজনীতি এ দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারেনি। এই রাজনীতি বাংলাদেশকে সংঘাত-সহিংসতার অনিশ্চিত রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। সেই রাজনীতির কবর রচনা করতে হবে।
ভিপি নূর বলেন, উত্তাল সমুদ্রে ঝুঁকি নিয়ে আমরা পাড়ি দিতে নেমেছিলাম এবং এই বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিবর্তন ঘটিয়ে তবেই ঘরে ফিরব। হানাহানি, দখলবাজি, জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে এবং জনগণকে জিম্মি করে গত ৫০ বছর ধরে রাজনীতি পরিচালিত হয়েছে। সেখান থেকে এই তরুণ প্রজন্ম জাতিকে নতুন করে পথ দেখিয়েছে। তাই নেতৃত্বের ভার তরুণদের হাতেই তুলে দিতে হবে।
গণঅধিকার পরিষদের এ নেতা বলেন, গত ১৬ বছর ধরে অনেকেই লড়াই করেছেন, কিন্তু ফ্যাসিবাদের পতন ঘটাতে পারেননি। আমরা গণঅধিকার পরিষদ গঠনের মাধ্যমে তরুণদের বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত করেছিলাম। আগামীতে যেন এই বাংলাদেশে আর কোনো হাসিনা কিংবা ফ্যাসিবাদ তৈরি না হয়, সেজন্য ছাত্র, যুবক ও তরুণদেরই আগামী বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিতে হবে। হানাহানি-মারামারির বিপরীতে শান্তি, সম্প্রীতি ও সহনশীলতার রাজনীতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই দেশে গণঅভ্যুত্থানের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে গণঅধিকার পরিষদ একটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল হিসেবে ‘ট্রাক’ প্রতীক নিয়ে ৩০০ আসনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে।
এ সময় বিভিন্ন কুমিল্লা এবং কুমিল্লার বিভিন্ন প্রসঙ্গ টেনে এনে বলেন, নেতা তৈরির পুণ্যভূমি এই কুমিল্লা। ৭১ সাল থেকে শুরু করে অসংখ্য আন্দোলন-সংগ্রামে জাতীয় পর্যায়ের নেতৃত্ব দিয়েছে কুমিল্লা। কুমিল্লার মেঘনায় অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে অসংখ্য মানুষের ঘরবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে, অথচ প্রশাসন রয়েছে নির্লিপ্ত। অন্যদিকে, অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন আজও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি। যার ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই কুমিল্লা নগরীতে দেখা দেয় চরম জলাবদ্ধতা ও যানজট। তাই গণঅধিকার পরিষদ তথা তরুণ রাজনীতিকদের মধ্য দিয়ে আগামীতে এই ইতিহাস-ঐতিহ্যের কুমিল্লাকে সুপরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত করতে হবে।
তিনি বলেন, দল-মত নির্বিশেষে আমাদের শান্তিপূর্ণ ও সহনশীল রাজনৈতিক পরিবেশ ধরে রাখতে হবে। আগামীতে কুমিল্লা তথা বাংলাদেশে নতুন ধারার রাজনীতি প্রতিষ্ঠার দায়-দায়িত্ব নিতে হবে তরুণদেরই।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন, বাংলাদেশ ছাত্রঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান, যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি মঞ্জুর মোর্শেদ মামুনসহ গণধিকার পরিষদের বিভিন্ন স্তরের নেতারা। সভায় সভাপতিত্ব করেন গণঅধিকার পরিষদ কুমিল্লা জেলার সভাপতি মো. ফয়েজ উল্লাহ।
এর আগে কুমিল্লা টাউনহল মাঠে কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলাসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়৷