
পটুয়াখালী সহ দেশের চলমান পরিস্থিতির পূর্বে দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ভোটাধিকার বঞ্চিত সাধারণ মানুষ ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানের পর থেকে জনগণ নিজ স্বাধীনতার অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় আছেন ভোটাধিকার প্রয়োগের।
জানা যায় খন্ড খন্ড ধারাবাহিকতায় নতুন যে চার কোটি ভোটার হয়েছেন তারা আছেন ভোটাধিকার অপেক্ষায়
। জনগণের লুণ্ঠিত ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিয়ে গণতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠায় প্রস্তুত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, সেনাবাহিনী, নির্বাচন কমিশনও (ইসি)। দেশের প্রায় সব দলও (দু’তিনটি বাদে) প্রস্তুতি নিচ্ছে একটি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের অপেক্ষা। এ লক্ষ্যে প্রকাশ হয় যে নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, জাতীয় নির্বাচন ছাড়া কোন বিকল্প নেই। ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই নির্বাচন হবে। এদিকে আরো জানায় কেউ যদি নির্বাচনের বিকল্প ভাবে সেটা হবে এই জাতির জন্য গভীর বিপদজনক। দেশ যখন নির্বাচনমুখী হচ্ছে ঠিক তখনই রাজনৈতিক অঙ্গনকে অস্থির করে তোলার চেষ্টা হচ্ছে, নির্বাচন পেছানোর চলছে নানা ষড়যন্ত্র, সৃষ্টি করা হচ্ছে বিশৃঙ্খল পরিবেশ।
অভিযোগ উঠেছে, বর্তমান সরকারে ব্যাপক প্রভাব এবং নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা যাদের নেই,এমন দু’একটি দল নির্বাচন বিলম্বিত করতে নানা অজুহাত ও ষড়যন্ত্র করছে। হঠাৎ করে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পি আর) পদ্ধতির নির্বাচনের দাবি তুলছে। এসবের মাধ্যমে দেশে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করে তারা যতদিন সম্ভব নির্বাচন পেছাতে চায়। একই রকম পরিস্থিতির অপেক্ষায় প্রহর গুনছে পতিত আওয়ামী লীগ ও তাদের আশ্রয়দাতা ও ভারত। সুযোগ পেলেই তারা হামলে পড়বে।

বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশ হয় যে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যত দিন যাবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ততই দুর্বল হবে এবং দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, বিশৃঙ্খল অবস্থা সৃষ্টি হবে। আর এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সুযোগ গ্রহণ করবে তৃতীয় পক্ষ, এমনকি পতিত আওয়ামী লীগও হিংস্র হয়ে উঠতে পারে। যা বিবাদমান কোন রাজনৈতিক দলের জন্যই মঙ্গলজনক হবে না। বরং আওয়ামী লীগ কোনভাবে ফিরতে পারলে আন্দোলনে অংশ নেয়া সকলের জন্য বিপদজনক হয়ে দাঁড়াবে। এজন্য যতদ্রুত সম্ভব নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
কেন্দ্রীয় বিএনপি সহ-দপ্তর সম্পাদক মো. মুনির হোসেন
বলেন, দেশে চলমান পরিস্থিতি যে সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে এর থেকে উত্তরণের জন্য নির্বাচন এখন ফরজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই মুহূর্তে নির্বাচন পেছানোর কোন সুযোগ নেই, যতদ্রুত সম্ভব নির্বাচনের দিকে যাওয়া উচিত। জামায়াতে ইসলামী-জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) যদি মনে করে নির্বাচন পেছালে তারা লাভবান হবে তাহলে সেটি হবে তাদের ভুল ভাবনা। কোন কারণে পরিস্থিতি ঘোলাটে হলে বাংলার জনগণ বিপদে পড়বে। আবার দেশে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টির ফলে তৃতীয় কোন পক্ষ ক্ষমতা দখল করলে পতিত আওয়ামী লীগ পুনরুজ্জীবিত হবে, ফিরে আসার সুযোগ পাবে। তখন বিপদ আরো বাড়বে।
দেশের মানুষ সবাই দেখেছে জাতীয় পার্টি ইস্যুতে উত্তেজনা, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর হামলা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে উত্তেজনা ছড়ানো হচ্ছে। এই সুযোগে গর্ত থেকে বেরিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মিছিল করার চেষ্টা করছে পতিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। যা দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র হিসেবেই দেখছেন রাজনীতি সচেতন ব্যক্তিরা। তারা বলছেন, পতিত স্বৈরাচার ও তার প্রভূ ভারত এদেশে সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতে দিতে চায় না। নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনবিরোধী, দেশবিরোধী অনেক ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত জালই তারা বিস্তার করবে এজন্য নির্বাচনই একমাত্র সমাধান ৷
কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এ বি এম মোশাররফ হোসেন
বলেন
আগামী নির্বাচন দেশের জন্য একমাত্র সমাধান তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মূল কাজ হওয়া উচিত একটি নির্বাচন দিয়ে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। এই সরকার দায়িত্ব গ্রহণের শুরু থেকে যদি নির্বাচনের বিষয়ে মনোযোগ দিত, নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করতো তাহলে এতোদিনে নির্বাচন দিয়ে দিতে পারতো।
এবং নির্বাচন যত দ্রুত হবে দেশ ও জাতি সকল প্রকার বিপথগামী আশঙ্কা থেকে রক্ষা পাবে ৷
পটুয়াখালী জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটন
বলেন, নির্বাচন ছাড়া চলমান সঙ্কটের কোন সমধান হবে না। নির্বাচনই একমাত্র সমাধান। অন্তর্বর্তী সরকার যতদিন থাকবে ততই তারা দুর্বল হবে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ হবে, যেটি এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি সকল জেলা ও উপজেলায় । পরিস্থিতি খারাপ হলে এবং সরকার দুর্বল হলে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হলে অন্যরা সুযোগ নেবে। তখন সাধারণ মানুষও সরকারের বিপক্ষে যাবে। এতোবড় আন্দোলনে আওয়ামী লীগ উৎখাতের পর মাত্র এক বছরের মধ্যে দলটি আবার জানান দিচ্ছে সুযোগ পেলেই তারা আবার ফিরে আসবে।
পটুয়াখালী জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মনিরুল ইসলাম লিটন
বলেছেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না থাকলে বিনিয়োগ হবে না। বিনিয়োগ না হলে কর্মসংস্থান, প্রবৃদ্ধি হবে না। তাই অর্থনীতি ও দেশের স্বার্থে প্রয়োজন দ্রুত নির্বাচন। বর্তমানে দেশে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চলছে। নানা কারণে বিনিয়োগকারীরা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় অর্থনীতিতে এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। যারা নতুন শিল্প স্থাপন করতে চান বা ব্যবসা শুরু করতে চান, তারাও অপেক্ষা করছেন একটি নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকারের জন্য ৷
পটুয়াখালী জেলা যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি নুরুল আমিন লিটন গাজী বলেন, দেশের পরিস্থিতি যতই ঘোলাটে বা অস্থিতিশীল করবে ফ্যাসিস্ট সরকার কখনো ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা থাকবে না। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যদি আবার কোনভাবে ফিরে আসে আর ক্ষমতা পায় তাহলে আন্দোলনে যারা অংশগ্রহণ করেছে তাদের প্রত্যেককেই মেরে ফেলবে। কারণ আওয়ামী লীগের সহ্য ক্ষমতা অনেক কম, তারা সহনশীল দল না। তাদের কাছে সমস্ত তথ্য আছে। কারা আন্দোলন করেছে, কারা অংশ নিয়েছে, কারা সরকারের রয়েছে,তাই কাউকেই তারা ছাড় দেবে না। বরং বিগত ১৫ বছরের ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের যে চরিত্র আমরা দেখেছি তার চেয়ে বেশি আক্রমণাত্মক হবে তারা। ইতোমধ্যে শেখ হাসিনার একটি অডিও কলে তিনি বলেছেন, তার নামে যতটা হত্যা মামলা হয়েছে তিনি ততটা হত্যা করার রাইট পেয়েছেন। তাহলে ফিরে আসতে পারলে বাস্তব পরিস্থিতি কি হতে পারে তা সকলকে অনুধাবন করতে হবে।