
দেশজুড়ে রাষ্ট্রীয় সম্পদের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলো জ্বালানি তেল। অথচ সেই তেল এখন বিক্রি হচ্ছে খোলা বাজারে, তাও আবার লাইসেন্সবিহীনভাবে। নেই কোনো অনুমতিপত্র, মানা হচ্ছে না সরকারের নির্ধারিত নীতিমালা ও দাম।
সম্প্রতি সরকারের নির্ধারিত পেট্রোলের দাম লিটারপ্রতি ১১৮ টাকা হলেও, বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা পর্যন্ত। যা সাধারণ মানুষের জন্য অবাক করার মতো এবং উদ্বেগজনক।
প্রতিবেদকের প্রত্যক্ষদর্শন
২৮ আগস্ট (বুধবার) দৈনিক জনবাণী প্রতিবেদকের চোখে পড়ে এমনই এক চিত্র। দেখা যায়, সরকারি নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক ঔষধ, সার, পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল।
এমন দৃশ্য দেখা যায় পটুয়াখালী জেলার দুমকি উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিক পাশা গ্রামের বুদ্ধিজীবী বাজারে। সেখানে ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি ইদ্রিস শিকদার (৫০) লাইসেন্সবিহীনভাবে দোকান পরিচালনা করছেন। দোকানে নেই কোনো অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, নেই কোনো সাইনবোর্ড বা ব্যানার— যেন প্রকাশ্যেই ক্ষমতার দাপট দেখানো হচ্ছে।
জেলার বিভিন্ন উপজেলা, হাটবাজার, মূল সড়ক ও অলিগলিতে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে নাম-বেনামে লাইসেন্সবিহীন তেল ও কীটনাশক ঔষধের ডিপো।
সরেজমিনে দোকান মালিকের বক্তব্য
দোকান মালিক ইদ্রিস শিকদারের সাথে কথা বলে জানা যায়,
> “এই দোকানের এখনো কোনো নাম বা সাইনবোর্ড দেওয়া হয়নি। আমার কীটনাশক বিক্রির লাইসেন্স বা তেল বিক্রির অনুমোদনও এখনো নেই। তবে আমি আবেদন করেছি।”
কর্তৃপক্ষের মতামত
এ বিষয়ে বরিশাল ও পটুয়াখালী জ্বালানি তেল ডিলার ও ডিস্ট্রিবিউশন এসোসিয়েশনের সভাপতি জানান—
> “এমন লাইসেন্সবিহীন ডিপোর সংখ্যা অনেক। যাদের কোনো অনুমোদনই নেই, অথচ তারা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন
> “এ বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত ওয়ারিং ইন্সপেক্টর মোঃ সাব্বির হোসেন মুঠোফোনে জানান—
> “বিষয়টি আমাদের জানা নেই। তবে খুব দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় অভিযান পরিচালনা করা হবে।”