
বরিশালে সরকারি দপ্তরে এখনও চলছে স্বৈরাচার ও দলীয় প্রভাবের নির্লজ্জ প্রদর্শন। গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সরকার পরিবর্তন হলেও স্থানীয় দপ্তরগুলোতে এখনও মুজিববাদে বিশ্বাসী কর্মকর্তারা বহাল তবিয়তে রয়েছেন, যারা নানা কৌশলে আওয়ামী লীগের চেতনা ও আধিপত্য ধরে রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
সাম্প্রতিক সময়ের আলোচিত ঘটনা, বরিশালের লাকুটিয়া বীজ উৎপাদন খামারের সিনিয়র সহকারী পরিচালক কৃষিবিদ পপি বৈরাগী ১৫ জুলাই তারিখে সরকারি কাজে মুজিববর্ষের প্যাডে একটি অফিসিয়াল চিঠি ইস্যু করলে তা ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। চিঠিটিতে জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি থাকায় সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে পক্ষপাতদুষ্ট অবস্থান এবং দলীয় চেতনা লালনের অভিযোগ উঠে।
চিঠিটি (স্বারক নং: ১২.০৬.০৬৫১.২৭২.৯৯.০০১.২৪.১৩) ইস্যু করা হয় বরিশালের সি অ্যান্ড বি রোডের বীজ প্রত্যায়ন অফিসার বরাবর এবং তার কপি পাঠানো হয় বিএডিসি’র অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপক (খামার), কৃষিভবন, ঢাকায়। বিষয়বস্তু ছিল “২০২৪-২৫ উৎপাদনবর্ষে উৎপাদিত বোরো ধানবীজ ফসলের তথ্য প্রেরণ”। কিন্তু চিঠির প্যাডে বঙ্গবন্ধুর ছবি ব্যবহার করায় প্রশ্নের মুখে পড়েন পপি বৈরাগী। পরে তিনি তড়িঘড়ি করে একই স্বারকে নতুন একটি চিঠি ইস্যু করেন, যেখানে মুজিববর্ষের প্যাড বাদ দেওয়া হয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের অনুসন্ধানী কার্যক্রম শুরু হলে পপি বৈরাগী প্রথমে সবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেও পরবর্তীতে তিনি অফিস থেকে অদৃশ্য হয়ে যান। একাধিকবার তার অফিসে উপস্থিত হয়েও সাংবাদিকেরা তাকে খুঁজে পাননি, এমনকি মুঠোফোনেও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সংবাদ বন্ধ করতে বিভিন্ন মহল থেকে সুপারিশ করিয়েছেন এবং আর্থিক সমঝোতারও চেষ্টা করেছেন।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, সরকারি অধিকাংশ দপ্তরে কর্মকর্তারা রদবদল হলেও বিএডিসি বরিশাল অফিসে এখনো মুজিব অনুসারীদের দাপট রয়েছে। একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়ে দলীয় প্যাড ব্যবহার করায় পপি বৈরাগীর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রথমে তিনি চিঠি ইস্যুর বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে এক সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেন যে, “ভুলবশত মুজিববর্ষের প্যাড ব্যবহার করে চিঠি পাঠানো হয়েছিল”। তার এমন দুই ধরনের বক্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, এই ঘটনা ধামাচাপা দিতে বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের এক নেতা সংবাদকর্মীদের ফোন করে বিষয়টি চেপে যাওয়ার অনুরোধ করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজেও বিএডিসির কিছু কাজ বাগিয়ে নিয়েছেন।
বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে বিএডিসির জেনারেল ম্যানেজার রফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া মেলেনি।
এ বিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য আবু সাঈদ মুসা বলেন,
এই ধরনের কর্মকাণ্ড জাতির সঙ্গে প্রতারণার শামিল। মুজিবের ছবি দিয়ে সরকারি অফিসিয়াল চিঠি ইস্যু কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই কারণে ‘জুলাই আন্দোলন’ হয়নি। যারা এ ধরনের কাজে জড়িত, তাদের অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনতে হবে।”