
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে ঝাটিবুনিয়া ম.ই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ৯ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে নির্মমভাবে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২১ আগস্ট (২০২৫) ঝাটিবুনিয়া ম.ই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্লাস চলাকালীন সময়ে শিক্ষক সুমাইয়া আক্তার তার পুত্র সানি ও সহপাঠী অনন্যার মধ্যে পড়ালেখা নিয়ে কথা বলাকে কেন্দ্র করে ক্ষিপ্ত হন। অভিযোগে বলা হয়েছে, সহকারী শিক্ষক সুমাইয়া আক্তার প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে ছাত্রী অনন্যাকে হাতে থাকা বেতের লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি প্রহার করেন। এতে লাঠি ভেঙে গেলে তিনি দুই হাতে কিল-ঘুষি ও চুল ধরে টেনে মাটিতে ফেলে দেন। এমনকি ছাত্রীটির বুকে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাথি মারেন এবং অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করেন।
এতে গুরুতর আহত অনন্যাকে প্রথমে মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়। পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবার জানিয়েছে, ঘটনাটি ছাত্রীটির মানসিক অবস্থার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে।
ভুক্তভোগীর বাবা গোলাম কবির সিকদার বলেন,
“আমার মেয়ে দীর্ঘদিন অসুস্থ। ঘটনার দিন শিক্ষিকা তাকে অকারণে মেরে আহত করেছেন। আমি তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা চাই এবং আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষিকা সুমাইয়া আক্তার বলেন, বেত টি আগেই ভাঙ্গা ছিল সেটা আমাদের স্কুলের সকল শিক্ষক জানে। ক্লাসে যারা পড়া বলতে পারেনি ওই দিন সকলকে পিটিয়েছি কিন্তু অনন্যাকে হাত পাততে বলায় সে হাত সামনে দেয় নাই,
এই বিষয়টি স্থানীয়ভাবে এবং প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে মীমাংসা হয়ে গেছে।
আইনজীবীরা জানান, কোনো শিক্ষক যদি ছাত্র-ছাত্রীকে শারীরিকভাবে আঘাত করেন, তবে তা শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং ফৌজদারি আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অপরাধ প্রমাণিত হলে তিনি চাকরিচ্যুতির পাশাপাশি কারাদণ্ড বা জরিমানার সম্মুখীন হতে পারেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন,
আমি একটি অভিযোগ পেয়েছি এবং অভিযোগের ভিত্তিতে প্রধান শিক্ষক এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসার কে বিষয়টা খতিয়ে দেখার জন্য বলেছি এবং প্রাথমিকভাবে শোকজ করার জন্য বলেছি, অপরাধ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ।
এ ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং শিক্ষকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।