
পটুয়াখালী জেলায় এক অভাবনীয় ঘটনা ঘটেছে। অলৌকিকভাবে মেয়ে থেকে ছেলেতে রূপান্তরিত হয়েছে জুবাইদা আক্তার আখি (১২)। বর্তমানে তার নতুন নাম তানভীর ইসলাম। সে সদর উপজেলার ছোটবিঘাই ইউনিয়নের হরতকিবাড়িয়া গ্রামের দিনমজুর আবুল কালাম চৌকিদারের সন্তান। পুরো এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে চাঞ্চল্য ও ব্যাপক আলোচনা।
জুবাইদা স্থানীয় একটি হাফিজিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থী ছিল।
পরিবার জানায়, প্রায় দুই মাস আগে জুবাইদার নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে। পরে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে সে সুস্থ হয়। কিছুদিন পর একদিন ঘুম থেকে উঠে নিজের শরীরে হঠাৎ শারীরিক পরিবর্তন দেখতে পায়। বিষয়টি পরিবারের কাছে জানানোর পর তাকে ঢাকায় অভিজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হলে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় জানা যায়—জুবাইদা ছেলের বৈশিষ্ট্য ধারণ করেছে।
ঘটনা জানাজানি হতেই প্রতিবেশীসহ উৎসুক জনতার ভিড় জমছে তাদের বাড়িতে।
জুবাইদার বাবা আবুল কালাম চৌকিদার বলেন, “এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়েছে। আমরা খুব খুশি; তবে দীর্ঘদিন চিকিৎসার ব্যয়ে আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছি।”
দাদা মজিদ চৌকিদার বলেন, “আমার দুটি নাতনি ছিল। কালামের অনেক দিনের ইচ্ছে ছিল পুত্রসন্তান। আল্লাহ তার সেই আশা পূরণ করেছেন। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।”
স্থানীয় বাসিন্দা মো. মোশারেফ বলেন, “এমন ঘটনা জীবনে কখনো শুনিনি। কিন্তু আজ নিজ চোখে দেখলাম—এটা আল্লাহর নেয়ামত।”
এদিকে তানভীর ইসলাম (সাবেক জুবাইদা) জানায়, “মাদরাসায় আমার অনেক বান্ধবী ছিল। এখন ছেলে হয়ে যাওয়ার কারণে তাদের সঙ্গে মেলা-মেশা আর সম্ভব হবে না—এজন্য একটু খারাপ লাগছে। তবে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া, এখন ভালো লাগছে। ভবিষ্যতে একজন ইসলামী সংগীত শিল্পী হতে চাই।”
পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ খালেদুর রহমান মিয়া বলেন, “বিজ্ঞানের ভাষায় হঠাৎ করে এমন রূপান্তর অলৌকিকভাবে ঘটার সুযোগ নেই। ক্রোমোজোমগত জটিলতা বা চিকিৎসা-পদ্ধতির কারণে এমন হতে পারে। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা আরও বিশদ ব্যাখ্যা দিতে পারবেন।”