ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের পক্ষে অবস্থান নেওয়াকে কেন্দ্র করে লন্ডভন্ড হয়ে পড়েছে দশমিনা ও গলাচিপা বিএনপি। প্রায় প্রতিদিনই বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের কমিটি বিলুপ্ত করা হচ্ছে এবং নেতাকর্মীদের বহিষ্কার করা হচ্ছে। তবে এসব ঘটনায় বিন্দুমাত্র বিচলিত নন বহিষ্কৃত বা বিলুপ্ত কমিটির নেতারা। বরং তারা আরও দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে হাসান মামুনকে নির্বাচনে বিজয়ী করতে প্রত্যন্ত এলাকায় প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় বিএনপি পটুয়াখালী-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নূরকে জোটের প্রার্থী হিসেবে সমর্থন দিয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় নির্দেশ অমান্য করে দশমিনা-গলাচিপা বিএনপি, এর অঙ্গসংগঠন এবং দশমিনা সরকারি আবদুর রসিদ তালুকদার কলেজ কমিটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক সদস্য হাসান মামুনের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছে।
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় গত ২৯ ডিসেম্বর হাসান মামুনকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় বিএনপি।
এরপর গত ১৭ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর নির্দেশে দশমিনা উপজেলা বিএনপি, গলাচিপা উপজেলা বিএনপি এবং গলাচিপা পৌর বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।
এ ঘটনার জেরে এবার দশমিনা উপজেলা, গলাচিপা উপজেলা এবং গলাচিপা পৌর যুবদলের কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি দুই উপজেলার পাঁচ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়া স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। চিঠিতে বলা হয়, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দশমিনা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এনামুল হক রতন, যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াসিন আলী খান এবং গলাচিপা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মশিউর রহমান মাহিন, যুগ্ম আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলাম মিন্টু ও সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান মঈনকে প্রাথমিক সদস্যসহ সকল পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম ইতোমধ্যে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন।
বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করেছেন দশমিনা উপজেলা যুবদলের সদ্য সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এনামুল হক রতন।