সংগ্রাম, ত্যাগ, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় ৮১ বছরে পা রাখলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র চেয়ারপার্সন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। আজ শুক্রবার (১৫ আগস্ট) তার ৮১তম জন্মদিন উপলক্ষে ঢাকাসহ দেশব্যাপী বিএনপি কার্যালয় ও মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
বিগত কয়েক বছরের মতো এবারও কেক কেটে জন্মদিন উদযাপন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। কেন্দ্রীয়ভাবে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সকাল ১১টায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এতে মুক্তিযুদ্ধে, ১৯৯০ সালের গণআন্দোলনে এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের রুহের মাগফিরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনা করা হবে।
১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন বেগম খালেদা জিয়া। তার স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক ও বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর রাজনীতিতে সক্রিয় হন তিনি এবং ১৯৮৪ সালে বিএনপি’র চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হন।
স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে আপসহীন নেতৃত্বের জন্য তিনি পরিচিতি পান। ১৯৯১ সালে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং মোট তিন দফা প্রধানমন্ত্রী হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে জয়ের পর তার নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার গঠন করে।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতির সাজানো মামলায় কারারুদ্ধ হন তিনি। গুরুতর অসুস্থতার কারণে ২০২০ সালে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পান এবং দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকেন। ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তে তার সাজা মওকুফ করা হয়।
বর্তমানে লিভার সিরোসিস, কিডনি, হার্ট, ডায়াবেটিস ও আর্থ্রাইটিসসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছেন এই জনপ্রিয় নেত্রী। এ বছরের শুরুতে কাতারের আমিরের পাঠানো বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডন যান এবং চিকিৎসা শেষে মে মাসে দেশে ফেরেন।
বিগত দেড় দশক ধরে ১৫ আগস্ট জন্মদিন পালন নিয়ে নানা মিথ্যাচার ও অপপ্রচারের শিকার হয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপি নেতা-কর্মীরা। তবে সকল বাধা ও প্রতিকূলতার মাঝেও বিএনপি নেত্রী আজ ৮১ বছরে পা রাখলেন দেশের রাজনীতিতে অবিসংবাদিত এক প্রতীক হয়ে।