পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় কর্মরত কানুনগো আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের বাইরে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিভিন্ন জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও উপজেলা ভূমি অফিসে ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় সার্ভেয়ার ও কানুনগো হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি দুর্নীতি ও কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে তার বেশ কিছু দৃশ্যমান সম্পদের তথ্য সামনে এসেছে। জানা যায়, বরিশালের রূপাতলী হাউজিং এলাকায় একটি বাড়ি, একাধিক প্লট, পটুয়াখালী শহরে প্লটসহ নিজ গ্রামেও বিপুল পরিমাণ সম্পদ গড়ে তুলেছেন তিনি। এছাড়া তার স্ত্রী ও সন্তানদের নামে-বেনামে সম্পত্তি ক্রয় এবং বিভিন্ন ব্যাংকে একাধিক অ্যাকাউন্টে বিপুল অর্থ জমা থাকার অভিযোগও রয়েছে।
সূত্রে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর, শেরপুর এবং সর্বশেষ বরিশালের বাকেরগঞ্জে কর্মরত থাকাকালীন সময়েও ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত কাজে ব্যাপক কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে।
বর্তমানে তিনি পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় কানুনগো হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, এখানেও সদ্য সাবেক জেলা প্রশাসকের সময় বিভিন্ন প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত কাজে কমিশন বাণিজ্য চালিয়ে গেছেন তিনি।
অভিযোগ অনুযায়ী, আলগী মৌজা, রামপুর মৌজা, ইপিজেড এলাকা এবং নৌবাহিনী সংশ্লিষ্ট কয়েকটি মৌজার জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় কমিশন বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ কাজে তার সঙ্গে জড়িত হিসেবে যাদের নাম উঠে এসেছে তাদের মধ্যে রয়েছেন— মাসুম, সুলতান মেম্বার, রিপন, কালাম সিকদার, ভাষানী, মাসুম মেম্বার, সিদ্দিক, লিটন মেম্বার, সীমা (সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান), আনোয়ার জহির তালুকদারসহ তৎকালীন আওয়ামী লীগের আরও কয়েকজন নেতা।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তারা অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।